অ্যাপল প্রথমে বাজারটা চালু করে। নাম দেয়া হয় আইপ্যাড।এরপর বিভিন্ন কোম্পানি নিজস্ব ব্র্যান্ডের ট্যাবলেট পিসি বাজারে এনে গেছে। স্যামসাং নাম দেয় গ্যালাক্সি ট্যাব। ফোন ও ট্যাবলেটের মাঝামাঝি পর্যায়ের একটি ডিভাইস বের করে নাম দেয় গ্যালাক্সি নোট। যদিও আন্তর্জাতিক বাজারে একে ফ্যাবলেট বলে ডাকা হয়। আর তারপর আসুস আনে প্যাডফোন। অনেকটা ফোন ও ট্যাবলেট (কিংবা প্যাডের) সমন্বিত রূপই হচ্ছে প্যাডফোন। প্রথমটি খুব একটা নাম করতে না পারলেও সম্প্রতি উন্মোচিত প্যাডফোন ২ সবার নজর কেড়েছে।

আসুস এর আগে নেক্সাস ৭ তৈরি করলেও সেটি গুগলের ব্যানারে বাজারজাত করা হয় বলে খুব একটা নাম পায় না আসুস। তবে এবার প্যাডফোন ২ বের করে আবার আলোচনার শীর্ষে উঠে এসেছে। আইএফএ কনফারেন্সের আগের দিন গ্যালাক্সি নোট ২ ও গ্যালাক্সি ক্যামেরার ঘোষণা দিয়ে স্যামসাং যেভাবে আলোচনায় উঠে এসেছিল, অনেকটা তেমনি স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট জগতে এখন বেশ ভাবে আছে আসুস তাদের নতুন প্যাডফোন ২ নিয়ে। আসুন এই প্যাডফোন ২ ও এর ফিচার সম্পর্কে আরেকটু বিস্তারিত জানা যাক।
আরও পড়ুনঃ গুগল আসুস নেক্সাস ৭ বনাম কিন্ডল ফায়ার এইচডি
আসুস প্যাডফোন ২

আসুস প্যাডফোন ২ হচ্ছে একটি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটের সমন্বিত ডিভাইস। স্মার্টফোনটির আকার হচ্ছে ৪.৭ ইঞ্চি যেটি প্যাডফোন বা ডকের সঙ্গে লাগালে ১০.১ ইঞ্চি আকারের ট্যাবলেট ডিভাইসে রূপান্তর হয়। এর নাম প্যাডফোন স্টেশন। এতে চলমান অ্যাপ্লিকেশনগুলো দু’টো ডিভাইসের জন্যই ফিট করে তৈরি করা হয়েছে। ফলে ব্যবহারের সময় ডিভাইস আলাদা করলে বা প্যাডফোন স্টেশনে কানেক্ট করলে অ্যাপ্লিকেশনগুলো সহজেই স্ক্রিনের আকারের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেবে। এছাড়াও স্মার্টফোনটির ২,১৪০ এমএএইচ ব্যাটারি বেড়ে ৫,০০০ এমএএইচ হয়ে যাবে যখনই আপনি একে স্টেশনের সঙ্গে কানেক্ট করবেন। ফলে, আলাদা আলাদাভাবে অথবা একসঙ্গে ব্যবহারের সুযোগ থাকছে এই প্যাডফোন ২-এর স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট।
প্যাডফোন ২ স্পেসিফিকেশন

নতুন ডিভাইস মানেই নতুন স্পেসিফিকেশন। আর হার্ডওয়্যার স্পেসিফিকেশন দিয়ে মোটেই হতাশ করেনি আসুস। এর স্ক্রিনে রয়েছে ১২৮০ x ৭২০ পিক্সেল সুপার আইপিএস+ প্রযুক্তি। ডকে বা স্টেশনে কানেক্ট করার পর ট্যাবের ডিসপ্লেতে রেজুলেশন পাওয়া যাবে ১২৮০ x ৮০০ পিক্সেল। প্রসেসর দেয়া হয়েছে ১.৫ গিগাহার্জ কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন এস-ফোর কোয়াড-কোর প্রসেসর ও ২ গিগাবাইট র্যাম।
আসুস প্যাডফোন ২-এ রয়েছে ১৩ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা যার বার্স্ট মোড সেকেন্ডে ৬টি ছবি তুলতে সক্ষম। এতে ব্যবহৃত হয়েছে সনি থেকে নেয়া f/2.4 BSI সেন্সর। ভিডিও রেকর্ডিং-এর ক্ষেত্রে ১০৮০পি এইচডি মোডে ৩০ ফ্রেম পার সেকেন্ড আর ৭২০পি এইচডি মোডে ৬০ ফ্রেম পার সেকেন্ডে ভিডিও রেকর্ড করতে সক্ষম। এছাড়াও ভিডিও কল বা ভিডিও চ্যাটের জন্য সামনে ১.৩ মেগাপিক্সেলের ছোট ফ্রন্ট ক্যামেরা রয়েছে।

কেবল স্মার্টফোন ব্যবহার করে ৩জি সংযোগে টানা ১৬ ঘণ্টা কথা বলা ও ওয়াই-ফাই সংযোগে টানা ১৩ ঘণ্টা ওয়েব ব্রাউজ করা যাবে বলে জানিয়েছে আসুস। আর প্যাডফোন স্টেশনের সঙ্গে কানেক্ট করলে পাওয়া যাবে ৩৬ ঘণ্টা ৩জি টক টাইম। এছাড়াও বাড়তি সুবিধা হিসেবে প্যাডফোন ২ স্মার্টফোনটি সর্বোচ্চ তিনবার রিচার্জ করা যাবে প্যাডফোন স্টেশন থেকেই। সেক্ষেত্রে অবশ্যই প্যাডফোন স্টেশনটি পুরোপুরি রিচার্জ থাকতে হবে।
সর্বোচ্চ ৬৪ গিগাবাইটের মেমোরি বা ধারণক্ষমতাসম্পন্ন প্যাডফোন ২ পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে আসুস। সেইসঙ্গে ২ বছরের জন্য ফ্রিতেই ৫০ গিগাবাইট আসুস ওয়েবস্টোরেজ ব্যবহার করতে পারবেন প্যাডফোন ২ ক্রেতারা। আর এতে প্রাথমিকভাবে অ্যান্ড্রয়েড ৪.০ আইসক্রিম স্যান্ডউইচ থাকবে বলা হলেও বাজারে আসতে আসতে এটি জেলি বিনে আপডেট করা হবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

আসুস প্যাডফোন ২-এ একটি অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে যার মাধ্যমে আপনি ডিভাইসের টাচস্ক্রিনে হাতে লিখতে পারবেন ও পরবর্তীতে সেই লেখাগুলো টেক্সট আকারে এডিট করতে পারবেন। এছাড়াও একটি বিল্ট-ইন অনুবাদক অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে যেটি যে কোনো ইমেইল, ওয়েব পেজ কিংবা অন্যান্য অ্যাপ্লিকেশন থেকে শব্দ বা বাক্য কেবল এক স্পর্শেই অনুবাদ করতে পারবে।
আসুস প্যাডফোন ২ রিলিজ
আসুস জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে এই হাইব্রিড ডিভাইস আসবে বুলগেরিয়া, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, জার্মানী, হাঙ্গেরি, ইতালি, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, রোমানিয়া, স্পেন, সুইডেন, হং কং, ইন্ডিয়া, জাপান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান ও আরব আমিরাতে। প্রথম প্যাডফোনটি ২০১১ সালের মে মাসে উন্মুক্ত করা হয়। আর এই প্যাডফোন সম্পর্কে ধারণা দেয়া হয় চলতি বছরের শুরুর দিকে। তবে এ যাবৎ এই শক্তিশালী ডিভাইসটি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিক্রি হয়নি। তাই উপরের কোনো দেশে পরিচিত কেউ থাকলে আগেভাগেই জানিয়ে রাখতে পারেন আপনার জন্য একটি আসুস প্যাডফোন ২ কিনে রাখতে!
দাম
আর দাম? তাইওয়ানে আসুস প্যাডফোন ২ এর ১৬ গিগাবাইট মডেল বিক্রি হবে ৬২০ ডলারে ও ৬৪ গিগাবাইট বিক্রি হবে ৭৫০ ডলারে। তবে এটি কেবল স্মার্টফোনের দাম। যদি সঙ্গে প্যাডফোন স্টেশন বা ডক (ট্যাবলেট) কিনতে চান, তাহলে মূল দামের সঙ্গে যোগ হবে ২১০ ডলার। তবে যদি আগে প্যাডফোন ২ কিনে ফেলেন ও পরে কেবল স্টেশন বা ডকটি কিনতে যান, তাহলে কিন্তু ৩১০ ডলার দিতে হবে। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে ১৬ গিগাবাইট প্যাডফোন ২ ও প্যাডফোন স্টেশনের দাম পড়ছে ৮৩০ ডলার যা বাংলাদেশি টাকায় পড়ছে ্রায় ৬৭ হাজার টাকা। অবশ্য বাংলাদেশে যারা ইমপোর্ট করে বিক্রি করেন তাদের কাছ থেকে কিনতে গেলে এগুলোর দাম ১ লাখ হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
তো, এ বছরের সম্ভবত সবচেয়ে শক্তিশালী এই “জুটি” সম্পর্কে আপনার কী মত?


🙂 nice one!
ধন্যবাদ। 🙂
তথ্য বহুল টিউন সজীব ভাই। আপনাকে ধন্যবাদ।
টিউন না, পোস্ট। 🙂
Hmm ……… So The Phone Docker ( The 10.1 Display )
Is it a Tablet itself ? I Mean Will it work when the phone is undocked or It will only work with the dock docked itself ?
Anyways This is my first comment here ……. Sorry Bangla lekha onk kosto tai English a ei lekhlam ! 😛
প্যাডফোন স্টেশন নিয়ে কেন যেন কেউই তেমন বিস্তারিত লিখেনি। সবাই লিখেছে প্যাডফোন ২ কে ১০.১ ইঞ্চি ট্যাবলেটে রূপান্তর করা যায় যখনই এটি ডকের সঙ্গে প্লাগইন করা হবে। এছাড়াও প্যাডফোন ১-ও ডক আলাদা ব্যবহার করা যেত না। সেই হিসেবে ফোন ছাড়া কেবল ডকটাকে ট্যাবলেট হিসেবে ব্যবহার করা যাওয়ার কথা না।
প্রথমে দেখে খুব ভাল লাগছে কিন্তু জিনিসের তুলনায় দামটা অনেক বেশি। তথ্যটি জানানোর জন্য অনেক ধন্যবাদ।
জিনিস কিন্তু সেইরকম!
Awesome!
If it was cheaper than I would buy it 🙁
My Budget is 550 $ also when it comes to Bangladesh it will be like 1000+ $ :'(
বাংলাদেশে আসলে দাম বাড়বেই। যেসব দেশে মুক্তি পাচ্ছে সেসব দেশে পরিচিত কেউ থাকলে আনার সময় নিয়ে আসতে বলেন। তাহলেই মূল দামে পাওয়া সম্ভব।
জিনিষটা দারুন। দামের জন্য সকলের কেনা সম্ভব নয় 🙁
দারুন একটা ‘দামী’ জিনিস।