ক্লাউড-নির্ভর কম্পিউটিং-এর জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে এর চাহিদাও। জরুরি ফাইলগুলো যে কোনো স্থান থেকে দেখতে পারার সুবিধা সত্যিই দারুণ। আর তাই ক্লাউড-নির্ভর সেবার দিকে ব্যবহারকারীরা প্রতিনিয়তই ঝুঁকছেন। খুশির খবর হলো, অনেক ক্লাউড সেবা আছে যেগুলো বিনামূল্যেও অনেকখানি জায়গা দিয়ে থাকে। ২ গিগাবাইট, ৫ গিগাবাইট, ১০ গিগাবাইট ইত্যাদি বিভিন্ন আকারের স্টোরেজ দিয়ে থাকে ফ্রি ফাইল শেয়ার অ্যান্ড স্টোরেজ সেবাদাতাগুলো। আর এদের মধ্যে কিছু কিছু সেবা দেয় ফাইল সিংক্রোনাইজ করার সুবিধা। অর্থাৎ, যে কোনো একস্থান থেকে নতুন কোনো ফাইল আপলোড করলে বা ফাইলে পরিবর্তন করলে অন্যখানেও সেই পরিবর্তনটা কার্যকর হবে।

স্মার্টফোনের যুগে এই শেয়ারিং চলে এসেছে হাতের মুঠোয়। কোনো একটি বা দু’টি ছবি তুলে তা ডেটা ক্যাবল বা ব্লুটুথের মাধ্যমে পিসিতে ট্রান্সফার করা এখন পুরনো পদ্ধতি। আধুনিক পদ্ধতি হচ্ছে, তা সরাসরি সোশাল নেটওয়ার্কে আপলোড করে দেয়া। কিন্তু সবসময় সব ছবি আপনি সোশাল নেটওয়ার্কে আপলোড করতে চান না। তখন আপনি আপনার ব্যক্তিগত ক্লাউড স্টোরেজে আপলোড করে রাখতে পারবেন আপনার ছবিসহ গুরুত্বপূর্ণ যে কোনো ধরনের ফাইল। আর এগুলোর জন্য কম্পিউটারে ফাইল ট্রান্সফার করারও প্রয়োজন নেই। আপনার অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস থেকেই সরাসরি কিছু ক্লাউড সেবায় আপনার ফাইল আপলোড করে ফেলতে পারবেন। আর সেই সেবার পিসি ক্লায়েন্ট যদি আপনার কম্পিউটারে ইন্সটল করা থাকে, তাহলে তো কথাই নেই। কোনো কাজ ছাড়াই অটোমেটিক আপনার কম্পিউটারে চলে আসবে সেসব ফাইল
চলুন দেখে আসি ৪টি ফ্রি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশন যেগুলো আপনাকে বিনামূল্যেই ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবহার করার সুবিধা দেবে।
ড্রপবক্স

যদিও সাম্প্রতিক সময়ে গুগলের ড্রাইভ সেবা বেশ জোর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছে, ড্রপবক্সের জনপ্রিয়তা এখনও তুঙ্গে। ড্রপবক্সের জনপ্রিয়তাকে পেছনে ফেলতে গুগল ড্রাইভকে এখনও অনেক পথ সামনে যেতে হবে। কেন, সেই কথা বাদ দিয়ে চলুন জেনে আসি কী কী উল্লেখযোগ্য সুবিধা রয়েছে ড্রপবক্সে।
একজন ব্যবহারকারী ড্রপবক্সে সাইন আপ করার সঙ্গে সঙ্গে পাবেন ২ গিগাবাইট ফ্রি স্টোরেজ। অর্থাৎ, তিনি তার কম্পিউটার, ল্যাপটপ, স্মার্টফোন কিংবা ওয়েব যে কোনো জায়গা থেকে সর্বোচ্চ ২ গিগাবাইট পর্যন্ত জায়গার ফাইল রাখতে পারবেন। যেহেতু এটি ফাইল সিংক্রোনাইজ করে, সেহেতু আপনি কম্পিউটার থেকে ড্রপবক্সে যেসব ফাইল আপলোড করবেন, সেগুলো মোবাইলেও দেখা যাবে। ফাইল আপলোডের জন্য কম্পিউটারে থাকা ড্রপবক্স ফোল্ডারে ফাইল কপি-পেস্ট করলেই হয়ে যাবে। একইভাবে মোবাইলে যেসব ফাইল আপলোড করবেন, সেগুলো ওয়েবে দেখা বা কম্পিউটারে দেখা যাবে। কম্পিউটার বা মোবাইল কোনোটাই সঙ্গে না থাকলে ওয়েব ব্রাউজার থেকেই আপনার ফাইলসমূহ অ্যাক্সেস করতে পারবেন।
মজার বিষয় হচ্ছে, শুরুতে মাত্র ২ গিগাবাইট জায়গা দিলেও আপনি প্রায় ১৬ গিগাবাইট পর্যন্ত জায়গা বাড়তি পেতে পারেন। জায়গা বাড়ানোর জন্য ড্রপবক্সের রয়েছে একাধিক পদ্ধতি। রেফারেল পদ্ধতিতে প্রতিজন বন্ধুকে ড্রপবক্সে অ্যাকাউন্ট খুলে দেয়ার বিপরীতে আপনি পাবেন বাড়তি ৫০০ মেগাবাইট। এছাড়াও ড্রপবক্স কম্পিউটারে ইন্সটল করলে, অ্যান্ড্রয়েড থেকে প্রথম ছবি আপলোড করলে, ড্রপবক্সের সঙ্গে টুইটার অ্যাকাউন্ট যোগ করলে, ড্রপবক্স সম্পর্কে টুইটারে ও ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলে ইত্যাদি বিভিন্নভাবে স্টোরেজ বাড়ানো যায়।
ড্রপবক্সের আরেকটি সুবিধা হচ্ছে অটোমেটিক আপলোড। আপনি চাইলে আপনার অ্যান্ড্রয়েডের গ্যালারি থেকে সব ছবি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ড্রপবক্সে আপলোড করে ফেলতে পারবেন। ফলে, ছবি বা ভিডিও তোলামাত্রই তা ড্রপবক্সে আপলোড হয়ে যাবে। তবে ওয়াই-ফাই সংযোগ ছাড়া এটি না করাই ভালো। অন্যথায় আপনার ক্যারিয়ার আপনার ব্যালেন্স থেকে অনেকখানি চার্জ কেটে নেবে।
অ্যান্ড্রয়েডে ড্রপবক্স ইন্সটল করার আগে কম্পিউটার থেকে ড্রপবক্সের জন্য রেজিস্ট্রেশন ও ড্রপবক্স ডাউনলোড করে নিন।এতে করে ছবি, ছোটখাটো ফাইল ইত্যাদি ডিভাইস থেকে কম্পিউটারে শেয়ার করা সহজ হয়ে যাবে। এবার ফাইল মুছে ফেললে তা পুনরুদ্ধার করা, ফাইলের পূর্ববর্তী সংস্করণে ফিরে যাওয়া ছাড়াও আরও বহুমুখী সুবিধা রয়েছে ড্রপবক্সের যা একবার ব্যবহার করতে শুরু করলেই টের পাবেন।
কম্পিউটার থেকে ড্রপবক্সের জন্য রেজিস্ট্রেশন ও ইন্সটল শেষে নিচের লিংক বা কিউআর কোড স্ক্যান করে আপনার অ্যান্ড্রয়েডে ড্রপবক্স ডাউনলোড করে নিন।
গুগল ড্রাইভ

গুগল ব্যবহারকারীরা গুগল ডক্সের নাম নিশ্চয়ই শুনে থাকবেন। এটি মূলত ডেস্কটপ কম্পিউটারের মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, এক্সেল ও পাওয়ারপয়েন্টের বিকল্প হিসেবে যাত্রা শুরু করে। কিন্তু সেখানেই থেমে থাকেনি গুগল। বেশ কয়েকমাস আগে গুগল ডক্সকে পরিবর্তন করে গুগল ড্রাইভে রূপান্তর করে। বর্তমানে এটি ডকুমেন্ট বা স্পেডশিট ছাড়াও যে কোনো ধরনের ফাইল সাপোর্ট করে। ফলে আপনি ছবি, ভিডিও এমনকি অ্যাপ্লিকেশনের ব্যাকআপও গুগল ড্রাইভে রাখতে পারবেন।
জিমেইল অ্যাকাউন্ট থাকলেই আপনি গুগল ড্রাইভ ব্যবহার করতে পারবেন। এর জন্য আলাদা কোনো রেজিস্ট্রেশনের দরকার পড়বে না। প্রাথমিকভাবে ৫ গিগাবাইট ফ্রি স্পেস পাবেন কিন্তু এটি পরবর্তীতে টাকা দেয়া ছাড়া বাড়ানোর আর কোনো উপায় নেই। গুগল ড্রাইভের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশনের একটি বিশেষ সুবিধা হলো এটি ডকুমেন্ট ফাইল সাপোর্ট করে। অর্থাৎ, ওয়ার্ড ফাইল গুগল ড্রাইভে আপলোড করে গুগল ফরম্যাটে কনভার্ট করা হলে তা অ্যান্ড্রয়েডেই ওপেন করা যাবে। পরবর্তীতে কম্পিউটার থেকে আবার গুগল ড্রাইভ থেকে ওয়ার্ড ফাইল আকারে ডাউনলোড করা যাবে। ড্রপবক্সে টেক্সট এডিটর থাকলেও ডক ফাইল বা রিচ টেক্সট এডিটিং অপশন নেই যেখানে আপনি লেখা বোল্ড, ইটালিক, অ্যালাইনমেন্ট ইত্যাদি করতে পারবেন। কিন্তু গুগল ড্রাইভের সঙ্গে গুগল ডক্সের সব ডকুমেন্ট ও নতুন ডকুমেন্ট লেখার সুবিধা চলে আসবে আপনার অ্যান্ড্রয়েডে।
গুগল প্লে স্টোর লিংকঃ গুগল ড্রাইভ
বক্স

বক্সও ড্রপবক্সের মতোই একটি সেবা যদিও এটি ফাইল সিংক্রোনাইজেশনের জন্য অতোটা জনপ্রিয় নয়। যদি আপনার কোনো স্ট্যাটিক ফাইল থাকে যেগুলো আপনি আপলোড করে ক্লাউডে সংরক্ষণ করতে চান কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ারও করতে চান, তাহলে ড্রপবক্সের চেয়ে বক্সই বেশি কাজে আসবে। বক্সের ইন্টারফেস অনেকটা কম্পিউটারের মতোই। যদিও এতে ফাইল সিংক্রোনাইজ করার সুবিধা রয়েছে, এটি ড্রপবক্সের মতো অতোটা জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারেনি। তাই আমার মতে প্রতিনিয়ত ব্যবহার ও আপডেটের জন্য ড্রপবক্স ব্যবহার করা উচিৎ। আর কোনো ফাইল শেয়ার করার জন্য বা সংরক্ষণ করার জন্য আপলোড করতে হলে বক্স হতে পারে ড্রপবক্সের চেয়ে ভালো। তবে নিচে ব্যবহার করেই দেখতে পারেন কোনটি আপনার ভালো লাগে।
অন্যসব ফাইল শেয়ারিং সেবাগুলোর মতোই বক্সও ওয়েবেই রেজিস্ট্রেশন করে ব্যবহার করা যায়। তাই অ্যান্ড্রয়েডে ডাউনলোড করার আগে চাইলে ওয়েব থেকেও বক্স ডট কমে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে দেখে নিতে পারেন বক্সের ইন্টারফেস। যদি পছন্দ হয়েই যায়, তাহলে ডাউনলোড করতে পারেন অ্যান্ড্রয়েডের জন্য বক্স।
গুগল প্লে স্টোর লিংকঃ বক্স
সুগারসিংক

সুগারসিংক বলছে, আপনি যদি গুগল ড্রাইভ বা ড্রপবক্স পছন্দ করেন, তাহলে সুগারসিংককে আপনি ভালোবাসবেন! প্রতিদ্বন্দ্বীদের নাম করে মার্কেটিং করা খুব সহজ কিছু না। কেননা, এর মধ্য দিয়ে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু আসলেই কি সুগারসিংক নামের এই সেবা গুগল ড্রাইভ কিংবা ড্রপবক্সের চেয়েও এগিয়ে? আপনি নিজেই যাচাই করে দেখুন। গুগল ড্রাইভের মতোই সুগারসিংক দিচ্ছে ৫ গিগাবাইট ফ্রি স্পেস। নিচের লিংক থেকে ডাউনলোড করে দেখুন সুগারসিংক, আর নিজেই সিদ্ধান্ত নিন এটি গুগল ড্রাইভ, বক্স কিংবা ড্রপবক্সের চেয়ে ভালো কি না।
গুগল প্লে স্টোর লিংকঃ সুগারসিংক
সবশেষে কোনটি আপনার পছন্দের ফাইল শেয়ারিং সেবা তা মন্তব্যের ঘরে জানাতে ভুলবেন না।

এধরনের রিভিউ আরো আশা করছি৷ সুন্দর হয়েছে৷
ধন্যবাদ। শেয়ার করতে ভুলবেন না!
৭ জিবি ফ্রী স্টোরেজের স্কাইড্রাইভ কোথায়?
স্কাইড্রাইভ নিয়ে আগেও একটি পোস্ট ছিল। http://androidkothon.com/post-id/383
এগুলো তো আছেই। টপ গুলো বাদেও মাঝে মাঝে নতুনদের সুযোগ দিয়েন।
বোঝাই যাচ্ছে, অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য এটা খুব কাজের একটা সাইট!
ধন্যবাদ সজীব ।
ধন্যবাদ আপনাকে।
ফাইল সিংক্রোনাইজ করে বলেই গুগল ড্রাইভ আর ড্রপবক্স আমার পছন্দের না। সুগারসিংকের নাম এই প্রথম শুনলাম। বক্স ব্যবহার করি, ভালোই লাগে। কিন্তু কয়েকদিন আগে কিছু অ্যাপ্লিকেশন আপলোড করে হালকা রিভিউসহ কয়েকটা ব্লগে পোস্ট দিয়েছিলাম, অ্যান্ড্রয়েড কথনের ফোরামেও দিয়েছিলাম (এখন তো ফোরাম বন্ধ) । লোকজন এতো বেশি পরিমানে ডাউনলোড করেছে যে, এখনো মাঝেমধ্যে কেউ কেউ ডাউনলোড করতে পারে না, ম্যাসেজ দেয়, ডাউনলোড করার জন্য নির্ধারিত ব্যান্ডউইথ শেষ হয়ে গেছে 🙂
আর স্কাইড্রাইভ তো রীতিমতো কৌতুক। বাংলাদেশের মতো লো স্পিডের ইন্টারনেটের দেশে স্কাইড্রাইভ নয়। মিডিয়াফায়ারের কি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশন নাই?
হ্যাকের কারণে ফোরামের তথ্যগুলো খুব উল্টোপাল্টা হয়ে গেছে যা রিস্টোর করা আর সম্ভব হচ্ছে না। আপনি ঐ পোস্টটা চাইলে আবার সাবমিট করতে পারেন। আপনার ফাইলগুলো কোথায় আপলোড করা ছিল?
ব্যক্তিগত ভাবে আমি সুগারসিঙ্ক ব্যবহারকারী। এর সহজ ইন্টারফেস কাজ এর পক্ষে বেশ সহায়ক এবং সবথেকে বড় যে ব্যাপার আমার কাছে তা হল সুগারসিঙ্ক বলতে গেলে সকল অপারেটিং সিস্টেমকেই সমর্থন করে।
তার মানে দাঁড়াচ্ছে যদি ভবিষ্যতে কোনদিন আমি অ্যানড্রয়েড ব্যাবহার না করে অন্য কোন অপারেটিং সিস্টেমে বদল করি তাহলে আমি সুগারসিঙ্ক সেখানেও ব্যাবহার করতে পারব। যা আমার মতে একটি ভালো দিক। যাইহোক আর্টিকেলটা সুন্দর হয়েছে।
vi Copy.com shob chita valo