
সম্প্রতি মাইক্রোসফট, নকিয়া এবং ওরাকলসহ বেশ কয়েকটি কোম্পানি মিলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে গুগলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। তাদের অভিযোগের বিষয়বস্তু, গুগল এবং অ্যান্ড্রয়েড। কোম্পানিগুলো দাবি করছে, গুগলের জনপ্রিয় মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম অ্যান্ড্রয়েড প্রতিযোগিতামূলক বাজারে গুগলের মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনগুলোকে “অন্যায়ভাবে” বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে যার ফলে প্রতিযোগী কোম্পানিগুলো সুযোগ পাচ্ছে না। এছাড়াও গ্রুপের অভিযোগ, স্বল্পমূল্যে অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস ব্যবহারকারীর হাতে পৌঁছে দিতে গুগলের কার্যক্রমও অন্যান্য কোম্পানিগুলোর জন্য প্রতিযোগিতা কঠিন করে দিচ্ছে।
“ফেয়ারসার্চ ইউরোপ” নামধারী এই গ্রুপের অন্তর্গত কোম্পানিগুলো এক প্রেস রিলিজে জানিয়েছে, কোর অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমটি ফ্রি হলেও ডিভাইস প্রস্তুতকারকরা যখন গুগলের কোনো অ্যাপ্লিকেশনের লাইসেন্স নিতে চায়, তখন তাদের গুগল পুরো গুগল অ্যাপসের বান্ডল নিতে বাধ্য করে। অর্থাৎ, কোনো ডিভাইস প্রস্তুতকারক যদি কেবল গুগল ম্যাপস বা ইউটিউব বা গুগল প্লে স্টোরের লাইসেন্স নিতে চায়, তাহলে গুগলের নিয়মানুযায়ী তাকে পুরো গুগল অ্যাপসের বান্ডলটিই নিতে হবে এবং সেগুলোকে ডিভাইসের মেনুতে রাখতে হবে।
উল্লেখ্য, গুগল অ্যাপস বান্ডলে রয়েছে জিমেইল, ইউটিউব, গুগল ম্যাপস, গুগল প্লে স্টোর, গুগল টক ইত্যাদি।
অথচ গুগল সবগুলো অ্যাপ্লিকেশন ডিভাইসে দিয়ে দেয়ার জন্য বাধ্য করলেও সেগুলোকে ডিফল্ট হিসেবে সেট করার ব্যাপারে কোনো বাধ্য-বাধকতা রাখেনি। এছাড়াও অ্যান্ড্রয়েডে স্কিন ব্যবহার করা যায় বলে এইচটিসি তাদের সেন্স ও স্যামসাং তাদের টাচউইজ ইন্টারফেসের মাধ্যমে সহজেই গুগলের অ্যাপ্লিকেশনগুলোকে ডিফল্ট অবস্থান থেকে সরিয়ে রাখতে পারে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, স্যামসাং-এর বেশিরভাগ ডিভাইসেই ইমেইলের জন্য ডিফল্ট অ্যাপ্লিকেশন থাকে স্যামসাং-এর নিজস্ব ইমেইল অ্যাপ্লিকেশন। এখানে জিমেইল রাখতে বাধ্য হলেও তা ডিফল্ট হিসেবে রাখতে বাধ্য নয় কোনো কোম্পানিই।
অথচ ফেয়ারসার্চ নামের এই গ্রুপের আওতাধীন মাইক্রোসফট, নকিয়া আর ওরাকল দাবি করছে, গুগলের অ্যান্ড্রয়েড প্লাটফর্মের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে তারা নিজেদের অ্যাপ্লিকেশনগুলোকে অনৈতিকভাবে ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছাচ্ছে। এই অ্যান্টি-ট্রাস্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইইউ কী জবাব দেয় সেটাই এখন দেখার বিষয়।
আনপ্রফেশনাল মাইক্রোসফট
মাইক্রোসফট অনেকদিন ধরেই গুগলের সঙ্গে সরাসরি কেবল প্রতিদ্বন্দ্বিতাই নয়, বরং নানা ভাবে গুগলের বিভিন্ন সেবা কীভাবে মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা খর্ব করছে সে ব্যাপারে প্রচারণা চালিয়ে আসছে। গুগলের সেবাসমূহ নিয়ে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা খর্ব হওয়ার অভিযোগ আরও অনেক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার কাছ থেকেই রয়েছে। কিন্তু সেসব প্রতিষ্ঠান কেবল ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিশ্চিত করার জন্যই গুগলের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালায় ও অভিযোগ দায়ের করে। অন্যদিকে মাইক্রোসফট তাদের প্রচারণার শেষাংশে তাদের সেবাগুলো যে কতো ভালো তা বলতে কখনোই ভুল করে না।
অন্য কথায়, মাইক্রোসফট বহুদিন ধরেই অন্যকে নিন্দা করে নিজেদের সেবার সুনাম করে আসা এক কোম্পানির নাম।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে অ্যান্টি-ট্রাস্ট অভিযোগ দায়ের করার পরদিনই মাইক্রোসফট গুগলের প্লে স্টোরকে সরাসরি আক্রমণ করে একটি বিজ্ঞাপন টিভিতে, ইন্টারনেটে এবং প্রিন্টে প্রকাশ করেছে। কোম্পানিটির দাবি, যখনই কোনো ব্যবহারকারী প্লে স্টোর থেকে কোনো অ্যাপ্লিকেশন কেনেন, তখনই তার নাম, ইমেইল ঠিকানা ও অবস্থান সেই অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপারের কাছে পৌঁছে যায়। মাইক্রোসফটের স্টোর থেকে কোনো অ্যাপ্লিকেশন কিনলে সেই ক্রেতার কোনো তথ্যই ডেভেলপারের কাছে যায় না এই দাবির মধ্য দিয়ে বিজ্ঞাপনটি শেষ করেছে মাইক্রোসফট।
নিচের ভিডিওতে দেখুন মাইক্রোসফটের সমালোচিত সেই বিজ্ঞাপন।
প্রযুক্তি বিষয়ক প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় প্রকাশনা দি ভার্জ সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে লিখেছে, মাইক্রোসফট এই মুহূর্তে সবচেয়ে সংকটময় সময় অতিক্রান্ত করছে। পুরো ডেস্কটপ কম্পিউটারের বাজার যখন নিম্নমুখী, মাইক্রোসফট তখন মোবাইল ও ট্যাবলেট জগতে তাল মিলিয়ে চলতে হিমশিম খাচ্ছে। কেননা, তারা ভেবেছিল তারা সবসময়ই প্যাকেটে মুড়ে উইন্ডোজ আর মাইক্রোসফট অফিসের ডিভিডি বিক্রি করে যাবে। এখন পরিবর্তিত বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতেই মাইক্রোসফট ক্লাউডভিত্তিক অফিস ও সাবস্ক্রিপশন-বেসড উইন্ডোজ সেবা আনার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
অন্য কথায়, মাইক্রোসফট ডেস্কটপ জগতের শীর্ষে থাকলেও আধুনিক যুগের সঙ্গে তাল মেলানোর ক্ষেত্রে মাইক্রোসফট সবসময়ই এক স্টেপ পেছনে পড়ে ছিল। আর নিজেদের উদ্ভাবনী শক্তির অভাব পড়ে যাওয়ায় তারা গুগলের মতো কোম্পানির বিরুদ্ধে শেমলেস মার্কেটিং-এ নেমেছে। ব্যবহারকারীর সুবিধার জন্য গুগলের অবদান বলে শেষ করা যাবে না। বিনামূল্যে গুগল ডকস, প্রেজেন্টেশন, স্প্রেডশিট লাখ লাখ মানুষকে মাইক্রোসফটের অফিস সুট বাড়তি খরচ দিয়ে কেনা থেকে বাঁচিয়েছে। নিঃসন্দেহে মাইক্রোসফট অফিস পেশাদার কাজের জন্য অদ্বিতীয় সফটওয়্যার সুট, যেটি প্রাতিষ্ঠানিক কাজের জন্য দরকারী। কিন্তু ব্যক্তিগত কাজের জন্য গুগলের সেবাগুলো মাইক্রোসফট থেকে অনেকাংশেই সাশ্রয়ী ও সহজ।
গুগল ব্যবহারকারীদের সুবিধার কথা ভেবে শুরু থেকেই তাদের সেবাসমূহ ডিজাইন করে আসছে। আর মাইক্রোসফট গুগলের দেখাদেখি সেসব সেবার অনুরূপ করছে এবং গুগলকেই উল্টো বিভিন্ন অভিযোগে দুষছে। বিশ্বের এক নম্বর কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের এমন অপেশাদার আচরণে অনেক প্রযুক্তিবিদই হতাশা প্রকাশ করেছেন।
মাইক্রোসফটের এই গুগলবিরোধী কার্যক্রম নিয়ে আপনার কি মত?


খুব বাজে কাজ করছে মাইক্রোসফট। গুগলের অনেক সন্তুষ্ট ব্যবহারকারি আছে। তারা মাইক্রোসফট কে দেখে নিবে
প্রতিটি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান আর দেশের একটি সু-সময় থাকে। এটি চিরস্থায়ী নয়-
মাইক্রোসফট তার সুসময় কে পেছনে ফেলে এসেছে। এখন একটি উইন্ডোজ ফোন বিক্রি
করা ডেস্কটপে লিনাক্স ইনস্টল করে দেয়ার মতই দূরুহ একটি ব্যাপার এন্ড্রয়েডের
কারনে। তাই চাইলেও মাইক্রোসফট মোবাইল মার্কেটে ডেস্কটপের মত জনপ্রিয়তা আর
সুসময় আশা করতে পারে না। সময়ের সাথে সাথে তাদের প্রভাব আরও কমতে থাকবে
ব্ল্যাকবেরির মত।
গুগলও কোন ধোয়া তুলসি পাতা কোম্পানী না। জায়ান্টে জায়ান্টে টক্কর লাগবেই। কন্সিউমাররাই সিদ্ধান্ত নিবে কোনটা ভাল।
কোনো কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানই ধোয়া তুলসী পাতা না। কিন্তু সবাই-ই নিজেদের উদ্ভাবন কিংবা অন্যকে খানিকটা কপি করে হলেও প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার চেষ্টা করে। গুগলের উদ্ভাবনী শক্তি একটু বেশিই। আর মাইক্রোসফটের সমস্যা হলো তারা কপি করেই ক্ষান্ত থাকে না, তারা উল্টো গুগলের বিরুদ্ধে প্রচারণাও করে।
জায়ান্টে জায়ান্টে টক্কর তখনই লাগে যখন একই ধরনের প্রোডাক্ট দু’টো কোম্পানিই বাজারে আনে। কিন্তু যখন এক জায়ান্ট আরেকটার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বদনাম করতে নামে, তখন সেটা কোনোভাবেই প্রফেশনালিজমের কাতারে পড়ে না।
গুগলের উদ্ভাবনী শক্তি নিয়ে কিছু বললেন নাকি? তা গুগলের কোন কোন প্রডাক্ট তার নিজের উদ্ভাবন, কারও কাছ থেকে কেন না, একটা তালিকা দিতে পারেন?
আপনার প্রফেশনালিজম এর সংজ্ঞায় অ্যাপল, উবুন্তু, পেপ্সি, কোক কেউই পরে না।
অ্যান্ড্রয়েড নিজেই গুগলের কেনা প্রোডাক্ট। কিন্তু তাই বলে কেনার পর গুগল এর উন্নয়নে যা যা করেছে যেগুলো একে আজ ৭০%-এরও বেশি মার্কেট শেয়ার দিয়েছে, তার কোনোটার ক্রেডিটই গুগলের ইনোভেশনকে দেবেন না? যদি না দেন, তাহলে আপনার সঙ্গে তর্ক করা অর্থহীন।
কোনো কোম্পানিই সব কিছু ১০০% আবিষ্কার করে না। কারো না কারো কাছ থেকে আইডিয়া নেয় এবং তার সঙ্গে নিজেদের অনেক কিছু জুড়ে দেয়। গুগল প্লাসের আইডিয়া নিয়েছে গুগল ফেসবুকের কাছ থেকে। অথচ পরে ফেসবুক গুগল প্লাসের অসংখ্য ফিচার নিজেরা মেরে দিয়েছে। এখানে উদ্ভাবনী শক্তি কি গুগলের নেই বলবেন?
সবচেয়ে বড় কথা হলো, আরেক কোম্পানির কাছ থেকে আইডিয়া নিক বা কিনে নিক সেটা সমস্যা না। প্রতিযোগী কোম্পানির সঙ্গে তুলনা করে “ওরটা খারাপ আমারটা ভালো” এমন প্রচারণা করা নিয়েই আমার (এবং আরও হাজারো মানুষের) আপত্তি। এটাই মাইক্রোসফটের প্রধান সমস্যা। এটাই অপেশাদারিত্বের পরিচয় দেয়।
বললামই তো, আপনার প্রফেশনালিজম এর সংজ্ঞায় অ্যাপল, উবুন্তু, পেপ্সি, কোক কেউই পরে না। অ্যাপল যখন শেমলেস মার্কেটিং করেছে তার মানে এই ছিল না যে স্টিভ জবসের ইনোভেশনে ঘাটতি পরে গেছিল। এগুলো বিজনেস স্টান্ট। গুগল ঠিকই জবাব দিবে। মজা নিবে কন্স্যুমার।
মাইক্রোসফটের ইনোভেশনে ঘাটতি পড়েছে এমনটা আমি বলিনি। কিন্তু গুগলের সঙ্গে অন্তত মোবাইল সেক্টরে অবশ্যই মাইক্রোসফটের ইনোভেশনের অভাব আছে অথবা তাদের এই অবস্থানে আসতে আরও সময় লাগবে। অ্যাপলও শেমলেস মার্কেটিং করেছে কিন্তু তখন অ্যাপলের নিজের প্রোডাক্ট (ম্যাক) ছিল ম্যাচিউর উইন্ডোজও ম্যাচিউর। দু’টো পারফেক্ট প্রোডাক্টের মধ্যে এমন তুলনা মানা যায়। কিন্তু অ্যাপলের ঐসব মার্কেটিংয়ের সঙ্গে এখনের মাইক্রোসফটের মার্কেটিং কম্পেয়ার করলে দেখুন তো মাইক্রোসফটের নিজের উইন্ডোজ ফোন কি আসলেই ম্যাচিউর হয়েছে? অ্যান্ড্রয়েডের সঙ্গে তুলনা করতে গেলে প্রথমেই তো তারা পেছনে পড়ে যায় অ্যাপ্লিকেশনের ঘাটতি দিয়ে।
বিজনেস স্টান্ট সেটা সত্যি কথা। স্যামসাং-ও অ্যাপলের বিরুদ্ধে এমন প্রচারণা করে ইদানিং। কিন্তু সেক্ষেত্রে স্যামসাং আর অ্যাপল দু’জনেরই প্রোডাক্ট টপ-নচ (যেমনটা অ্যাপল-মাইক্রোসফটের ক্ষেত্রে উইন্ডোজ-ম্যাক টপ-নচ অপারেটিং সিস্টেম); অথচ এখন মাইক্রোসফট লড়তে আসছে অ্যান্ড্রয়েডের সঙ্গে যার সঙ্গে তাদের অপারেটিং সিস্টেম কোনোভাবেই তুলনায় যায় না; অন্তত এখনও না।
উইন্ডোজ নিয়ে ক্রোমবুককে পঁচাক, সেটা বিজনেস স্টান্ট হিসেবে মানা যায়। কিন্তু নিজেদের এখনও ঠিকমতো পূর্ণতাই পায়নি এমন প্রোডাক্ট নিয়ে মার্কেট লিডিং আরেকটা প্রোডাক্টের সঙ্গে এমন মার্কেটিং-এ যাওয়া আমার মতে শেমলেসই। (আর কেবল আমার মতেই না, আরও অনেকেই এমন মন্তব্য লিখছেন বাইরের সাইটগুলোতে)
আর আমার মনে হয় না গুগল জবাব দিবে। মাইক্রোসফটের এই ড্রয়েড রেজ, স্ক্রুগল এগুলো বহুদিন ধরেই আসছে। গুগল আলগোছে না করে নিজের কাজে মন দেয়।
“আর নিজেদের উদ্ভাবনী শক্তির অভাব পড়ে যাওয়ায় তারা গুগলের মতো কোম্পানির বিরুদ্ধে শেমলেস মার্কেটিং-এ নেমেছে।” 🙂
উইন্ডোজ ফোন ৮ কে আপনি যেকোন মোবাইল ওএস এর সাথেই তুলনা করতে পারবেন। এখন যথেষ্ট ম্যাচিউর্ড। আপনার যদি উইন্ডোজ ফোন ভাল না লাগে তাহলে সেটা আপনার পার্সোনাল ওপিনিওন। তাতে করে উইন্ডোজ ফোনের কোয়ালিটি বা অগ্রগতির গতি কমে যাবে না। বরং বাড়ছে। আর অ্যাপ মার্কেট, মাইক্রোসফট তো সব এ্যাপ নিজেই বানিয়ে দিবে না। ডেভেলপাররা বসে নেই, অ্যাপ সংখ্যা কম নয় মোটেই বরং APP ও “crAPP” এর রেশিও প্লে স্টোর তুলনায় অনেক ভাল। বাকিটা তো আপনি নিজেই বলেছেন। দেখা যাক গুগল জবাব দেয় কিনা।
ভাই উইন্ডোজ এর কোন ফোন চালান একটু জানাবেন :p
আর অ্যান্ড্রয়েড এর সাথে বর্তমানে উইন্ডোজ এর তুলনা করলে একটা কথাই শুধু বলার আছে- ”কই আগরতলা আর কই চকীর তলা!!”
ভাই কোন সেট চালাই সেটা আপনাকে জানানোর প্রয়োজনবোধ করছি না। নিজে কি উইন্ডোজ ফোন চালান? না চালালে দয়া করে মন্তব্য করে বিরক্তি বাড়াবেন না।
“উইন্ডোজ ফোন ৮ কে আপনি যেকোন মোবাইল ওএস এর সাথেই তুলনা করতে পারবেন। এখন যথেষ্ট ম্যাচিউর্ড”
হা হা হা …. মজা পেলাম
এগুলো বিগত তিন বছর ধরে খুবই পরিচিত ও পচে যাওয়া কিছু কথা।
উইন্ডোজ ফোন ৭ যখন রিলীজ হয়েছিল তখন মাইক্রোসফট ও উইন্ডোজের ফ্যানবয়দের রিভিউ ছিল এটা,
সেটার টেরিবল ফেইলিওর এর পর ইউন্ডোজ ফোন ৭.৫ নিয়ে এল, সাথে একটা মেট্রোইউআই, বলা হল এটাই পারফেক্ট,
আইফোন অ্যান্ড্রয়েডের পারফেক্ট প্রতিদ্বন্দী,
নকিয়া বলল ‘অ্যান্যন্য কোম্পানীগুলো ইউন্ডোজ ফোন বানিয়ে ভাল ব্যাবসা করতে পারবে’ … ইউন্ডোজ ফ্যানবয়দেরও সেই পুরনো কথা …….
এগেইন টেরিবল ফেইলিওর …
তখন মাইক্রোসফট ও ফ্যানবয়রা বলল ‘ইতিপূর্বের ইউন্ডোজ ফোনগুলো তেমন সিরিয়াস কিছু ছিল না, জাস্ট টেস্ট , সামনে আসছে ইউন্ডোজ ফোন ৮, এটাই রিয়েল থিং’ ……..
২০১২ এর লাস্ট কোয়ার্টারজুড়ে ইউন্ডোজ ও নকিয়া অনেক দৌড়াল, জায়গায় জায়গায় লুমিয়ার স্টক শেষ …. বিশাল কিছু হচ্ছে …
২০১৩ এর ফার্স্ট কোয়ার্টারও পার হয়ে গেল, অনেক চিল্লাফাল্লা চলেছিল মাইক্রোসফট ও নকিয়ার,
পুরো দুই বছরের চিল্লাচিল্লি, মার্কেটিং ও দুই কোয়ার্টার win8 এর ভয়াবহ সেলস শেষে ফলাফল ?
ইউন্ডোজ ফোনের টোটাল মার্কেট শেয়ার ৩.৫-৪% …….. হা হা হা …….
অবস্থা বেগতিক দেখে ৮ রিলিজের মাত্র ১ বছরের মধ্যেই প্রথম সার্ভিস প্যাক বাদ দিয়ে টোটালি ইউন্ডোজ ৯ রিলিজ প্ল্যান …
“ডেভেলপাররা বসে নেই, অ্যাপ সংখ্যা কম নয় ” ::
বাস্তব পরিস্থিতি হল মাইক্রোসফট ডেভেলপারদের আকৃষ্ট করতে অনেকটাই ব্যার্থ। অ্যাপ সংখ্যা হাজারের ঘরে হলেও আইফোন ও অ্যান্ড্রেডের তূলনায় এবং অ্যাপ ও অন্যান্য কন্টেন্ট ব্যাবসায় সেটা তেমন কিছুই নয়।
ডেভেলপার আকৃষ্ট না হবার যথেষ্ট কারণ আছে সেটা হল মাইক্রোসফটকে অবিশ্বাস করা।
২০১২ পর্যন্ত ও মাইক্রোসফট ডটনেট নিয়ে অনেক লম্ভযম্ফ করেছে, ডেভেলপারদের অরেক স্বপ্ন দেখিয়েছে,
শেষ পর্যন্ত কি হল ? মাইক্রোসফট ঘোষণা দিয়ে ডটনেট ডিজকন্টিউনিউ করেছে,
একসময়ের মাইক্রোসফটের বিশাল প্রজেক্ট ‘প্রজেক্ট ট্যালিসম্যান’, অনেক হাইপ, অনেক চিল্লাফঅল্লা … শেষে অ্যাবানডন ….
এতবছরের চিল্লাফঅল্লা শেষে মাইক্রোসফট ভিজ্যুয়াল সি++ সাপোর্ট ডিজকন্টিনিউড,
সাম্প্রতিক সময়ে ডাইরেক্টএক্স ডিজকন্টিউনিউ করার কথা শোনা যাচ্ছে … ডেভেলপারদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে
একারণে ডেভেলপারদের সাথে মাইক্রোসফটের একটা দূরত্ব রয়েছে,
একারণে ২ বছরেরও বেশি সময়ের লম্ফজম্ফ শেষেও উইন্ডোজ ফোনের মার্কেট শেয়ার ৩.৫-৪ এর মধ্যে ….
প্রগ্রেস করার উদাহরণ হল স্যামস্যাং, একসময়ের মোবাইল ইন্ডাস্ট্রির আন্ডারডগ মাত্র তিনবছরেই মোবাইল জায়ান্ট,
এলজির ক্ষেত্রেও বিগত দেড়বছরেই রাতারাতি আঙুলফুলে কলাগাছ,
সনি ? একসময়ের সনি এরিকসন ২০০৯-১০ ধারণা করা হচ্ছিল লস খেতে খেতে সম্ভবত সিমেন্সের মত দশা হবে, শেয়ারদার সনি ও এরিকসন দুজনেই বাদ দিতে চাইছিল
সেই সনি এরিকসনের পুরোটাই কিনে নিল সনি এবং ২০১২ এর সনি এক্সপেরিয়া লাইনআপ দিয়ে সনি এখন থার্ড লারজেস্ট স্মার্টফোন সেলার
পুরো সনি লোকসানে, কেবলমাত্র স্মার্টফোন ফার্ম ছাড়া, রাতারাতি বড় হচ্ছে সনির স্মার্টফোন সেকশন।
ইউন্ডোজ ফোন ২০০১ এও ছিল, ২০০৩(সিম্বিয়ান ও মটোরোলার রেজর) এও ছিল, ২০০৭ এও ছিল(আইফোন), ২০০৯ এও ছিল(অ্যান্ড্রয়েড),
২০১৩ তেও আছে …..
একযুগেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে স্টিল এখনো তাদের মার্কেট শেয়ার ,…… হাস্যকর …
———–
আর কিছু বলতে চাই না,
আমার নিজের সম্পর্কে একটি কথাই বলব,
বিগত ছয়বছরেরও বেশি সময় ধরে ইলেকট্রনিক গ্যাজেট দুনিয়ার সাথে যুক্ত আছি, এ দুনিয়ার থবরাখবর খুব ভালমতই রাখি, অনেক উথ্থানপতন দেখেছি …
আপনাকে আনন্দ দিতে পেরে ভালো লাগল।
“অবস্থা বেগতিক দেখে ৮ রিলিজের মাত্র ১ বছরের মধ্যেই প্রথম সার্ভিস প্যাক বাদ দিয়ে টোটালি ইউন্ডোজ ৯ রিলিজ প্ল্যান …”
ভুল তথ্য। গুগলে টোকা দিয়ে দেখতে পারেন। কিওয়ার্ডঃ উইন্ডোজ ৮.১।
৭, ৭.১, ৭.৫ যে ছোটখাট আপডেট এটুকু তো বুঝা উচিত। এগুলো কে অ্যান্ড্রয়েডের ২.১, ২.২, ২.৩ এর সাথে তুলনা করলে চলবে না। উইন্ডোজ ফোনের মেজর রিলিজ ২ টা। ৭ এবং ৮। কোন ফ্যানবয়ের পাল্লায় পড়েছেন তা জানি না। আপনাকে ভুল বুঝিয়েছে।
“মাইক্রোসফট ঘোষণা দিয়ে ডটনেট ডিজকন্টিউনিউ করেছে”
ডটনেট ফ্রেমওয়ার্ক ডিস্কন্টিনিউড? চোখে কি ভুল দেখছি? মাইক্রোসফটের এন্টারপ্রাইস ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলে খাবে কি? ভিসুয়াল স্টুডিও দিয়ে কি এখন ক্রিকেট খেলার কাজে ব্যবহার হবে? ব্যাপক আনন্দ পাচ্ছি। আপনি পারেনও ভাই। লিঙ্ক প্লিজ :))
“এতবছরের চিল্লাফঅল্লা শেষে মাইক্রোসফট ভিজ্যুয়াল সি++ সাপোর্ট ডিজকন্টিনিউড”
এইসব তথ্য কই পান ভাই? ভিজুয়াল সি++ ইস ইন অ্যাক্টিভ ডেভেলপমেন্ট ফেজ একর্ডিং টু উইকিপিডিয়া। ইভেন মেট্রো অ্যাপেও ধুমায় ব্যবহার হচ্ছে।
“সাম্প্রতিক সময়ে ডাইরেক্টএক্স ডিজকন্টিউনিউ করার কথা শোনা যাচ্ছে …”
হাহাহাহা! শুধু এক্সএনএ স্টুডিও ডিস্কন্টনিউড করসে। ডিরেক্টএক্স ডিস্কন্টিনিউ করলে দুনিয়ার সব এক্সবক্স গুলা ভাঙ্গারির দোকানে চলে যাবে। আবারো বলি, এসব তথ্য কই পান ভাই?
অ্যান্ড্রয়েড জন্মের পরপরই আইওএস কে হটিয়ে দেয় নি। আইফুন ইউজাররা ব্যপক ধুনফুন করেছিল। পাত্তাই দেয় নি। আর এখন…। সময় দিতে হয়। আপনাদের আচরণ ঠিক তখনকার আইফুন ফ্যানবয়দের মত।
বিগত ৬ বছরে উত্থান পতন আমিও কম দেখিনি। উইন্ডোজ ফোন এইট ব্যবহারের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। প্রোডাক্ট যথেষ্ট ভাল। এর পরেও যদি মাইক্রোসফট ব্যাবসা করতে না পারে সেটা তাদের মার্কেটিং এর সমস্যা।
এইটা ভাবছেন না কেন যে ৩.৪~৪ কোন স্ট্যাটিক নাম্বার না? এটা ক্রমশ বাড়ছে? দুইটা লিঙ্ক দিয়ে শেষ করি-
http://www.tomshardware.com/news/Windows-Phone-Market-Share-Symbian-Blackberry,21786.html
http://www.forbes.com/sites/greatspeculations/2013/04/12/nokias-bet-on-windows-phone-looks-like-a-good-one-so-far/
আর সময় পেলে একটা লুমিয়া হাতিয়ে দেখবেন। আন্দাজে ঢিল মারার চেয়ে ব্যবহারের অভিজ্ঞতা নিয়ে ঢিল মারলে জায়গা মত লাগবে।
কানেকশন প্রব্লেম এর কারনে কষ্ট করে দুবার রিপ্লাই লিখতে হল। ডিস্কাসের একটা বাগ পেলাম।
১১ বছর,,,
ভাই তুমি Pirates of Silicon valley (1997) মুভিটা দেখিও… তারপর কন্সুমার আর কনসিউম্ড এর পার্থক্য করিও।
I am totally agree with Sajeeb Vaia.
মাইক্রোসফট একটু হ্যাংলা স্বভাবের হয়ে গেছে। এককালে সেরা প্রতিষ্ঠান ছিল তো, লাভের থলিতে টান পড়ায় এখন এরকম ইঁদুর-বিড়াল খেলছে। তবে গুগল কোন কম না, তারাও কিন্তু ভদ্রভাবে কৌশলে তাদের সবকিছুতে আমাদের অভ্যস্ত করে ফেলছে যেন পরে ওদের ছাড়া আমরা না চলতে পারি।
গুগল যথেষ্ট প্রফেশনাল। তারা কোনো তর্কেই যায় না। মাইক্রোসফটের ড্রয়েড রেজ, স্ক্রুগলড কত কত ক্যামপেইন, কোনোটাতেই গুগল পাত্তা দেয় না। কেবল অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের কাজে মন দেয়। কুকুরের সঙ্গে চিল্লানোর কোনো অর্থ নেই সেটা গুগল ভালোমতোই বুঝে।
মাইক্রোসফট চুষে (MS Sucks!) :@
মাইক্রোসফট আমরা সবাই ব্যবহার করলেও, ফ্রি সফটওয়ার গুলির যে সুবিধা তাতো লিখে শেষ করা যাবে। আসলে লোকে চুরি করতেই বেশি আগ্রহী তাই সকলেই উইন্ডোজ টা বেশি ব্যবহার করে, আর ফ্রি মাল পেলেই ভাবে যে মালের ভিতর খোঁট আছে, তাই লিনাক্সের মত ও.এস ব্যবহার করতে ভয় পায়, কিন্তু এন্ড্রোয়েড মোবাইলে আসার পর আমার মনে হয় লোকের এই ভয় যদি কিছু কমে তাহলে উইন্ডোজ কে চলুন সবাই মিলে লাথ মেরে বের করে দিই,
মাইক্রোসফট, নকিয়া এবং ওরাকল ? মরা কান্না শুনছেন কোন দিন ? না শুনে থাকলে এই কোঃ গুলার WIKI ইনফো দ্যাখতে পারেন , সাজিব ভাই নোকিয়া এর অনেক পাগলা ভক্ত আছে, যারা ২৭০০ ক্লাসিক বা 6300 নামক super mobile ব্যাবহার করেন । আবার অনেকে দূর থেকে নকিয়া ৯২০ দাখসেন কিন্তু দূর থেকে xperia z দেখার chance পান নাই , তাদের সাথে তর্কে যাওয়ার কোন দরকার নাই , আমরা তাদের জন্য বলছি , Nokia পৃথিবীর সবছায় ভাল কোম্পানি এতো সবাই জানি আতা নিয়া তরক করার দরকার নাই , এবং Android কথন এ এসে “উইন্ডোজ ফোন ৮ কে আপনি যেকোন মোবাইল ওএস এর সাথেই তুলনা করতে পারবেন” টাইপ কমেন্ট না করে “awesomenokia.com” এ গিয়ে “android sucks” + “google sucks” টাইপ কমেন্ট করে বাপক মজা পাইতে পারেন >>>>>>>
“Mess with the best,die like the rest”
google play store এর মতো Android kothon ইনফো লিক করলে আপনি পাবনা থেকে অনেক গুলা msg পাইতে পারেন আজকে ****
97,798 Employees , Total Assets – 29949 billion € nia jodi net income ” -3106 billion € ” hoy tahole matha kharap hoyar e kotha , asun amra sobai Nokia ar pase darai sohanuvutir haat baria dai ai android pirito osohay companytake ,lol ………
খাকজ। মাইক্রোসফটের অবস্থা তার মানে খারাপ ই। :p
কয়েকদিন আগে না মাইক্রোসফট টুইটারে অ্যান্ড্রয়েডের সমস্যা নিয়ে টুইটের জন্য বলেছিল?
নকিয়ার সাথে পারে নাই, অ্যান্ড্রয়েডের সাথে কেমনে পারবে? xD
@facebook-602586495:disqus
“উইন্ডোজ ফোন ৮ কে আপনি যেকোন মোবাইল ওএস এর সাথেই তুলনা করতে পারবেন। এখন যথেষ্ট ম্যাচিউর্ড”
হা হা হা …. মজা পেলাম
এগুলো বিগত তিন বছর ধরে খুবই পরিচিত ও পচে যাওয়া কিছু কথা।
উইন্ডোজ ফোন ৭ যখন রিলীজ হয়েছিল তখন মাইক্রোসফট ও উইন্ডোজের ফ্যানবয়দের রিভিউ ছিল এটা,
সেটার টেরিবল ফেইলিওর এর পর ইউন্ডোজ ফোন ৭.৫ নিয়ে এল, সাথে একটা মেট্রোইউআই, বলা হল এটাই পারফেক্ট,
আইফোন অ্যান্ড্রয়েডের পারফেক্ট প্রতিদ্বন্দী,
নকিয়া বলল ‘অ্যান্যন্য কোম্পানীগুলো ইউন্ডোজ ফোন বানিয়ে ভাল ব্যাবসা করতে পারবে’ … ইউন্ডোজ ফ্যানবয়দেরও সেই পুরনো কথা …….
এগেইন টেরিবল ফেইলিওর …
তখন
মাইক্রোসফট ও ফ্যানবয়রা বলল ‘ইতিপূর্বের ইউন্ডোজ ফোনগুলো তেমন সিরিয়াস
কিছু ছিল না, জাস্ট টেস্ট , সামনে আসছে ইউন্ডোজ ফোন ৮, এটাই রিয়েল থিং’
……..
২০১২ এর লাস্ট কোয়ার্টারজুড়ে ইউন্ডোজ ও নকিয়া অনেক দৌড়াল, জায়গায় জায়গায় লুমিয়ার স্টক শেষ …. বিশাল কিছু হচ্ছে …
২০১৩ এর ফার্স্ট কোয়ার্টারও পার হয়ে গেল, অনেক চিল্লাফাল্লা চলেছিল মাইক্রোসফট ও নকিয়ার,
পুরো দুই বছরের চিল্লাচিল্লি, মার্কেটিং ও দুই কোয়ার্টার win8 এর ভয়াবহ সেলস শেষে ফলাফল ?
ইউন্ডোজ ফোনের টোটাল মার্কেট শেয়ার ৩.৫-৪% …….. হা হা হা …….
অবস্থা বেগতিক দেখে ৮ রিলিজের মাত্র ১ বছরের মধ্যেই প্রথম সার্ভিস প্যাক বাদ দিয়ে টোটালি ইউন্ডোজ ৯ রিলিজ প্ল্যান …
“ডেভেলপাররা বসে নেই, অ্যাপ সংখ্যা কম নয় ” ::
বাস্তব
পরিস্থিতি হল মাইক্রোসফট ডেভেলপারদের আকৃষ্ট করতে অনেকটাই ব্যার্থ। অ্যাপ
সংখ্যা হাজারের ঘরে হলেও আইফোন ও অ্যান্ড্রেডের তূলনায় এবং অ্যাপ ও
অন্যান্য কন্টেন্ট ব্যাবসায় সেটা তেমন কিছুই নয়।
ডেভেলপার আকৃষ্ট না হবার যথেষ্ট কারণ আছে সেটা হল মাইক্রোসফটকে অবিশ্বাস করা।
২০১২ পর্যন্ত ও মাইক্রোসফট ডটনেট নিয়ে অনেক লম্ভযম্ফ করেছে, ডেভেলপারদের অরেক স্বপ্ন দেখিয়েছে,
শেষ পর্যন্ত কি হল ? মাইক্রোসফট ঘোষণা দিয়ে ডটনেট ডিজকন্টিউনিউ করেছে,
একসময়ের মাইক্রোসফটের বিশাল প্রজেক্ট ‘প্রজেক্ট ট্যালিসম্যান’, অনেক হাইপ, অনেক চিল্লাফঅল্লা … শেষে অ্যাবানডন ….
এতবছরের চিল্লাফঅল্লা শেষে মাইক্রোসফট ভিজ্যুয়াল সি++ সাপোর্ট ডিজকন্টিনিউড,
সাম্প্রতিক সময়ে ডাইরেক্টএক্স ডিজকন্টিউনিউ করার কথা শোনা যাচ্ছে … ডেভেলপারদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে
একারণে ডেভেলপারদের সাথে মাইক্রোসফটের একটা দূরত্ব রয়েছে,
একারণে ২ বছরেরও বেশি সময়ের লম্ফজম্ফ শেষেও উইন্ডোজ ফোনের মার্কেট শেয়ার ৩.৫-৪ এর মধ্যে ….
প্রগ্রেস করার উদাহরণ হল স্যামস্যাং, একসময়ের মোবাইল ইন্ডাস্ট্রির আন্ডারডগ মাত্র তিনবছরেই মোবাইল জায়ান্ট,
এলজির ক্ষেত্রেও বিগত দেড়বছরেই রাতারাতি আঙুলফুলে কলাগাছ,
সনি
? একসময়ের সনি এরিকসন ২০০৯-১০ ধারণা করা হচ্ছিল লস খেতে খেতে সম্ভবত
সিমেন্সের মত দশা হবে, শেয়ারদার সনি ও এরিকসন দুজনেই বাদ দিতে চাইছিল
সেই সনি এরিকসনের পুরোটাই কিনে নিল সনি এবং ২০১২ এর সনি এক্সপেরিয়া লাইনআপ দিয়ে সনি এখন থার্ড লারজেস্ট স্মার্টফোন সেলার
পুরো সনি লোকসানে, কেবলমাত্র স্মার্টফোন ফার্ম ছাড়া, রাতারাতি বড় হচ্ছে সনির স্মার্টফোন সেকশন।
ইউন্ডোজ ফোন ২০০১ এও ছিল, ২০০৩(সিম্বিয়ান ও মটোরোলার রেজর) এও ছিল, ২০০৭ এও ছিল(আইফোন), ২০০৯ এও ছিল(অ্যান্ড্রয়েড),
২০১৩ তেও আছে …..
একযুগেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে স্টিল এখনো তাদের মার্কেট শেয়ার ,…… হাস্যকর …
———–
আর কিছু বলতে চাই না,
আমার নিজের সম্পর্কে একটি কথাই বলব,
বিগত
ছয়বছরেরও বেশি সময় ধরে ইলেকট্রনিক গ্যাজেট দুনিয়ার সাথে যুক্ত আছি, এ
দুনিয়ার থবরাখবর খুব ভালমতই রাখি, অনেক উথ্থানপতন দেখেছি …
আপনার সম্পর্কে ধারণা পেলাম। আপনাকে আনন্দ দিয়ে ভাল লাগছে। এবার কিছু
কথা বলি আসেন। 🙂
৭.১, ৭.৫, ৭.৮ এর সাথে অ্যান্ড্রয়েড এর ২.১ ২.২ ২.৩ মিলালে তো ভাই সমস্যা। এখন
পর্যন্ত উইন্ডোজ ফোন এর মেজর ভার্শন ২টা, ৭ এবং ৮। কোনটা ছোট আপডেট আর কোনটা মেজর আপডেট সেটা বুঝতে হবে। কোন ফ্যানবয়ের পাল্লায় পরেছিলেন জানি না, ভুল বুঝিয়েছে।
“সেটার টেরিবল ফেইলিওর এর পর ইউন্ডোজ ফোন ৭.৫ নিয়ে এল, সাথে একটা মেট্রোইউআই, বলা হল এটাই পারফেক্ট”
৭.৫ এর আগেরটায় (৭, ৭.১) মেট্রো ইউআই ছিল না? একটু বুঝিয়ে বলবেন? 😛
“অবস্থা বেগতিক দেখে ৮ রিলিজের মাত্র ১ বছরের মধ্যেই প্রথম সার্ভিস প্যাক বাদ দিয়ে টোটালি ইউন্ডোজ ৯ রিলিজ প্ল্যান …”
ভুল জানেন। দয়া করে গুগলে টোকা দিন। কিওয়ার্ডঃ উইন্ডোজ ৮.১
“মাইক্রোসফট ঘোষণা দিয়ে ডটনেট ডিজকন্টিউনিউ করেছে”
চোখে কি ভুল দেখছি?? ডট নেট ফ্রেমওয়ার্ক না থাকলে এমএস এর এতবড় এন্টারপ্রাইজ মার্কেটের কি হবে? আর কন্সিউমার মার্কেট? ভিসুয়াল স্টুডিওটা দিয়ে কি এখন ক্রিকেট খেলা হবে?
লিঙ্ক প্লিজ! :))
“মাইক্রোসফট ভিজ্যুয়াল সি++ সাপোর্ট ডিজকন্টিনিউড,”
ভাই কি ভিজুয়াল বেসিক এর সাথে গুলিয়ে ফেললেন? ভিসুয়াল স্টুডিও ২০১২ তে আর উইন ফোনের নতুন এসডিকে তে ভিসুয়াল সি++ ফুল সাপোর্ট কি তাহলে ভুল দেখলাম! লিঙ্ক প্লিজ!
😛
“সাম্প্রতিক সময়ে ডাইরেক্টএক্স ডিজকন্টিউনিউ করার কথা শোনা যাচ্ছে …”
এক্সএনএ স্টুডিও ডিজকন্টিনিউ করেছে। নট ডিরেক্টএক্স। ডিরেক্টএক্স বন্ধ করলে নতুন
এক্সবক্স৭২০ ছাড়ত না, আর ৭৬ মিলিওন এক্সবক্স৩৬০ ভাঙ্গারির দোকানে চলে যাবে। এসব খবর কই পান ভাই?
অ্যান্ড্রয়েড জন্মের পরেই হুট করে আইওএস কে হটিয়ে দেয় নি। সময় লেগেছে। তখন আইফুন ব্যবহারকারীদের ধুনফুন এর কথা মনে আছে? পাত্তাই দেয় নি। জবস এর মন্তব্য নিশ্চয়ই ভুলে যান নি। প্রথম দিকে পিস অফ শিট হলেও সময়ের সাথে অ্যান্ড্রয়েড ঠিকই তার যোগ্যতা দেখিয়ে দিয়েছে। অবশ্য স্যামসাং একাই যতটা দেখিয়েছে, তারা না থাকলে ব্যপারটা এত সোজা হত না। অ্যান্ড্রয়েড ফ্যানবয়দের এখনকার
আচরণ ঠিক তখনকার আইফুনওয়ালাদের মত। উত্থান পতন কম দেখি নি।
এটা কেন ভাবছেন না যে ৩.৪ শতাংশ সংখ্যাটা কোন স্থির সংখ্যা না। আপনার কমেন্ট লেখার সময়ও সেটা বাড়ছে, আমারটা লেখার সময়ও। আর সুযোগ পেলে অবশ্যই একটা লুমিয়া WP8 হাতিয়ে দেখবেন। অভিজ্ঞতা বিফলে যায় না। 😉
যাবার আগে কয়টা লিঙ্ক দিয়ে যাই। সবই সাম্প্রতিক-
http://venturebeat.com/2013/04/01/android-up-13-ios-down-7-blackberry-down-81-and-windows-phone-up-a-massive-52/
http://www.forbes.com/sites/greatspeculations/2013/04/12/nokias-bet-on-windows-phone-looks-like-a-good-one-so-far/
http://www.tomshardware.com/news/Windows-Phone-Market-Share-Symbian-Blackberry,21786.html
মাইক্রোসফট ছাড়া চলা যায় -_- কিন্তু গুগল !! স্বপ্নেও পিসি/মোবাইল ব্যাবহার করতে গুগল লাগে :p আর গুগলের নামে যদি মাইক্রোসফটের এত গা জ্বলে , তাহলে গুগলের পা ধরে মাইক্রোসফটের এড দিতে গেল কেন ? তখন মাইক্রোসফটের মনে থাকে না ?
এত্ত প্যাচালের খ্যাতা পুরি। আই ওস, এন্ড্রয়েড, উইন্ডোজ এই তিনের মধ্যে উইন্ডোজ ৯০/১০০ খালি ইন্সটাগ্রাম টা নাই, ওইটা থাকলে ১০০/১০০ দিতাম। 😛
না জানি কতজন পাইরেটেড উইন্ডোজে বসে বসে মাইক্রোসফটকে গালাগাল করছেন 😛
এইরকম ডেডিকেটেড ফ্যানবয় হয়ে লাভ কিরে ভাই ?? সম্ভব হলে এই টেকনোলোজি গুলো কাজে লাগিয়ে নিজেদের উন্নয়ন করেন, কিছু ডেভেলপ করেন, নিজেকে সমৃদ্ধ করেন। চিল্লাচিল্লি করে সময় নষ্ট করা ছাড়া আর তাদের ফ্রি পাবলিসিটি করা ছাড়া আর কিছুই হয় না।